দশনীয় স্থান

“গভীর গহণ অরণ্য মাঝারে বৃদ্ধ বিটপী মূলে, প্রাচীন ভাওয়াল ইতিহাস হয়ে সহসাই কথা বলে মূর্তিমান এই মহাবর্তমানে আরেক প্রভাব বেলা, শুভ জনমের প্রতিষ্ঠায় খুশি নব গাজীপুর জেলা।”   গাজীপুর জেলা শতবর্ষের  নানা ঐতিহ্যে লালিত এক সুপ্রাচীন ঐতিহাসিক জনপদ যার রয়েছে এক সমৃদ্ধ অতীত। সম্রাট অশোকের আমলের সাকেশ্বর স্তম্ভ, বৌদ্ধ আমলের ভবাক ও ভাকুরাইনামেজন পদীয় শাসন, মৌর্জ শাসনামলে নির্মিত দরদরিয়া দূর্গ, ঢোল সমুদ্রের বৌদ্ধ বিহার জেলার প্রায় আড়াই হাজার বছরের ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। বাংলা ভাষায় প্রথম অভিধান ও ব্যকরণ ‘‘বাংলা পর্তুগীজ শব্দকোষ’’ ১৭৩৩ সনে ভাওয়াল নগরীতে বসে রচনা করেন পাদ্রী মনোএলদা আসসুম্পাসউঁ। তাছাড়া বাংলা গদ্যের ও সুতিকাগার এই গাজীপুর জেলা। বাংলা সাহিত্য ও ভাষা প্রথম গদ্য মুদ্রিত বই ‘‘ব্রাহ্মন রোমান ক্যাথলিক সংবাদ’’  ১৭৩৩ সালে পাদ্রী দোম অমেত্মানিয় দো রোজারিও রচনা করেন এজেলাতেই। এছাড়া কাপাসিয়াতিত বাটি গ্রামে তৈরি হতো বাংলার শ্রেষ্ট মসলিন, বরমী বাজারের নিকটে ছিল দেশের সর্ববৃহৎ গ্রামীণ পণ্যবাজার। কালের যাত্রায় ঐতিহ্যবাহী গাজীপুর জেলা সমৃদ্ধ হয়েছে পর্যটন শিল্পে। রাজধানী ঢাকা নিকটবর্তী হওয়ায় বাংলাদেশ অন্যতম প্রধান বৃহৎ উদ্যান ভাওয়াল জাতীয় ছাড়াও নিবিড় শাল অরণ্যে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন মনোরম পিকনিক স্পট।

 

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ ও দর্শনীয় স্থান

১। জাগ্রত চৌরঙ্গী চান্দনা চৌরাস্তা, গাজীপুর
২। ছয়দানা দীঘি ও যুদ্ধক্ষেত্র গাছা, গাজীপুর
৩। ১৯ শে স্মারক ভাস্কর্য রাজবাড়ী, জয়দেবপুর
৪। আনসার ভিডিপি একাডেমী স্মারক ভাস্কর্য সফিপুর, কালিয়াকৈর
৫। মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কর্ণার উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর

 

ঐতিহাসিক পূরাকীর্তি ও দর্শনীয় স্থান

১। রাজবাড়ী শ্বশান জয়দেবপুর
২। শৈলাট (শিশু পালের সময়ে বিখ্যাত নগর) শ্রীপুর
৩। ইন্দ্রাকপুর (প্রাচীন রাজধানী) শ্রীপুর
৪। কপালেশ্বর (ধ্বংসপ্রাপ্ত পুরাকীর্তি) রাজা শিশু পালের রাজধানী
৫। একডালা দুর্গ (প্রাচীন ও ধ্বংস প্রাপ্ত) একডালা, কাপাসিয়া
৬। মীর জুলমার সেতু (কহরদরিয়া) টঙ্গী বাজার, টঙ্গী
৭। সাকাশ্বর স্তম্ভ কালিয়াকৈর

 

বিখ্যাত ব্যক্তিদের স্মৃতি বিজরিত স্থান

১। বঙ্গতাজ তাজউদ্দিনের বাড়ী দরদরিয়া,কাপাসিয়া
২। বিজ্ঞানী মেঘনাথ সাহার বাড়ী কালিয়াকৈর
৩। রবীন্দ্র স্মৃতি বিজরিত কাওরাইদ বাংলো   শ্রীপুর

 

কালের স্বাক্ষী – জমিদারবাড়ী

১। ভাওয়াল রাজবাড়ী জয়দেবপুর
২। বলধার জমিদার বাড়ী বাড়ীয়া
৩। পূবাইল জমিদার বাড়ী পূবাইল
৪। বলিয়াদী জমিদার বাড়ী কালিয়াকৈর
৫। কাশিমপুর জমিদার বাড়ী   গাজীপুর সদর
৬। দত্তপাড়া জমিদার বাড়ী টঙ্গী

 

অতি পরিচিত দীঘি ও বিল

১। হায়দ্রাবাদ দীঘি হায়দ্রাবাদ পূবাইল
২। ভাওয়াল কলেজ দীঘি গাজীপুর সদর
৩। রাহাপাড়া দীঘি গাজীপুর পৌরসভা
৪। টেংরা দীঘি শ্রীপুর
৫। তেলিহাটী দীঘি শ্রীপুর
৬। সিঙ্গার দীঘি (পাল রাজাদের রাজধানী নগরী)   শ্রীপুর (মাওনা অদূরে)
৭। সিঙ্গারদীগি কাউছি টিহর কেওয়া, শ্রীপুর
৮। কর্ণপুর দীঘি শ্রীপুর
৯। চৌড়াদীঘি কালীগঞ্জ
১০। মাওনা দীঘি শ্রীপুর
১১। ঢোল সমুদ্র দীঘি ও পুরাকীর্তি কালিয়াকৈর
১২। রাজবিলাসী দীঘি গাজীপুর
১৩। কোটামুনির ডিবি ও পুকুর ডাকুরাইল
১৪। মনই বিবি-রওশন বিবির দীঘি (চান্দরা) চন্দ্র (চান্দরা) কালিয়াকৈর
১৫। মকেশ্বর বিল কালিয়াকৈর
১৬। বিল বেলাই গাজীপুর সদর
১৭। উষ্ণোৎস শালদহ নদী
১৮। গঙ্গা (সরোবর) তীর্থক্ষেত্র শ্রীপুর

 

ধর্মীয় স্থান ও সমাধিক্ষেত্র

১। ভাওয়াল রাজ শ্মশানেশ্বরী জয়দেবপুর
২। টোক বাদশাহী মসজিদ কাপাসিয়া
৩। সমাধিক্ষেত্র (কবরস্থান) চৌড়া, কালীগঞ্জ
৪। সাকেশ্বর আশোকামলের বৌদ্ধ সত্মম্ভ (ধর্মরাজিকা)   কালিয়াকৈর
৫। পানজোড়া গীর্জা কালীগঞ্জ
৬। ব্রাহ্ম মন্দির কাওরাইদ
৭। সমাধিক্ষেত্র, গুপ্ত পরিবার কাওরাইশ, শ্রীপুর
৮। সেন্ট নিকোলাস (চার্চ) নাগরী, কালীগঞ্জ
৯। বক্তারপুর, ঈশা খাঁর মাজার কালীগঞ্জ
১০। তিমুলিয়া গীর্জা কালীগঞ্জ

 

পিকনিক স্পট

১। ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান গাজীপুর সদর
২। ছাতিয়ানী বটবৃক্ষ জাঙ্গালিয়া, কালীগঞ্জ
৩। রাথুরার জঙ্গল শ্রীপুর
৪। চন্দ্রা শালবন কালিয়াকৈর
৫। কেওয়া বটবৃক্ষ (প্রায় ২০ বৎসরের প্রাচীন) শ্রীপুর
৬। কৃষি খামার (সর্ববৃহৎ) কাশিমপুর
৭। বরমী বাজার (বানর বিচরণ ক্ষেত্র ও প্রাচীন বাজার)   শ্রীপুর, গাজীপুর
৮। নুহাস চলচ্চিত্র ও পর্যটন কেন্দ্র মির্জাপুর
৯। হোতাপাড়া স্যুটিং স্পট গাজীপুর সদর
১০। জীবন্ত স্বর্গ শ্রীপুর
১১। আনসার একাডেমী সফিপুর
১২। পুষ্পদাম শ্রীপুর
১৩। অনস্তধারা পর্যটন বিনোদন কেন্দ্র রাজেন্দ্রপুর, গাজীপুর সদর
১৪। খতিব খামার বাড়ী মির্জাপুর
১৫। উৎসব মির্জাপুর
১৬। সাফা গার্ডেন মির্জাপুর
১৭। শ্যামলী মির্জাপুর
১৮। দীপু সনিক অঙ্গন পূবাইল
১৯। হাসনাহেনা পূবাইল
২০। সীগার্ল শ্রীপুর
২১। অঙ্গন সুর্য্যনারায়নপুর, কাপাসিয়া
২২। গুলিস্তান মির্জাপুর
২৩। অনন্তভবন মির্জাপুর
২৪। নন্দন কালিয়াকৈর

 

জাগ্রত চৌরঙ্গী


জয়দেবপুর চান্দনা চৌরাস্তা, গাজীপুর-এ অবস্থিত। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বপ্রথম স্মারক ভাস্কর্য হলো ‘‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’’ মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে ১৯৭১ সালে ১৯ শে মার্চ গাজীপুরে সংঘটিত প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রামের চেতনার আলোকে ও শহীদ হুরমত আলীসহ অন্যান্য শহীদদের স্মরনে নির্মিত হয় ‘‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’’। ভাস্কর্যটির উচ্চতা মাটি থেকে ১০০ (একশত) ফুট। দুপাশে ১৬ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ১১ নং সেক্টরের ১০৭ জন এবং ৩নং সেক্টরের ১০০ জন শহীদ সৈনিকের নাম খোদাই করা রয়েছে। জিরো পয়েন্ট হতে ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডে গাজীপুর গামী বাসে আসা যায়।     ১৯ শে মার্চ

স্মারক ভাস্কর্য


ভাওয়াল রাজবাড়ীর সম্মুখে সবুজ চত্বরে অবস্থিত। ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে ১৯ শে মার্চের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রামে ভাওয়াল বাসীর ভূমিকা এ স্মারক ভাস্কর্যে ফুটে উঠেছে। ভাস্কর্যটি অবিকল জাগ্রত চৌরঙ্গীর মত। জিরো পয়েন্ট হতে গাজীপুর গামী বাসে শিববাড়ীতে নেমে রিক্সাযোগে রাজবাড়ী আসা যায়।

আনসার ভিডিপি একাডেমী স্মারক ভাস্কর্য


কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর মৌজায় অবস্থিত। মুক্তিযুদ্ধে আনসার-ভিডিপি বাহিনীর গৌরবোজ্জল ভূমিকা ছিল। ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল মুজিব নগরে মুক্তিযদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণে অনুষ্ঠানে আনসার বাহিনীর ১২জন সদস্য অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরম্নল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী বঙ্গতাজ উদ্দিনকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। আনসার-ভিডিপি একাডেমীতে ১৯৮৫ সালের ১লা অক্টোবর এ ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়। জিরো পয়েন্ট হতে গাজীপুর চৌরাস্তায় এবং চৌরাস্তা- টাঙ্গাইল গামী বাসে করে যাওয়া যায়।

মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কর্ণার


গাজীপুর সদর উপজেলার বোর্ড বাজারে অবস্থিত। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে তোলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণাগার ১৯৯৯ সনে। মহৎ এই উদ্যোগটির নামকরণ করা হয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কর্ণার’। এই সংগ্রহশালায় রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের পরিচালক স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ বঙ্গতাজ তাজউদ্দিনসহ বহু দুর্লভ আলোকচিত্র (৬০টি) পোর্ট্রেট(৪০টি)। জিরো পয়েন্ট হতে গাজীপুর গামী বাসে আসা যায়।

বঙ্গতাজ তাজউদ্দিনের বাড়ী


দরদরিয়া কাপাসিয়ায় অবস্থিত। বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গতাজ তাজউদ্দিনের স্মৃতি বিজড়িত পিতৃভূমি।

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান


গাজীপুর সদর ও শ্রীপুর উপজেলায় অবস্থিত। দেশের অন্যতম বৃহৎ উদ্যান। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সরকার পৃথিবীর অন্যান্য উন্নত দেশের আদলে অভয়ারণ্যের ছাঁচে, আরন্যিক পরিবেশ রক্ষণ এবং মানুষ ও পরিবেশের নিবিড় সম্পর্কের কথা বিবেচনা করেই ভাওয়াল শাল অরণ্যে এই উদ্যান গড়ে তোলে। এখানে বেশ কয়েকটি পিকনিক স্পট রয়েছে। এখানে ১৩টি কটেজ ও ৬টি রেষ্টহাউজ রয়েছে। রাত্রি যাপনের জন্য অনুমতি প্রদান হয় না। জিরো পয়েন্ট হতে শ্রীপুর গামী বাসে যাতায়াত করা যায়।