বরণীয় যারা

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক বক্তিত্ব


বঙ্গতাজতাজউদ্দিন আহমেদ


তাজ উদ্দিন আহমেদ ১৯২৫ খ্রিঃ ২৩ জুলাই গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার দরদরিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা মৌলভী মোহাম্মদইয়াছিন খান মাতা -মেহেরুন নেছা খানম ।তিনি ভারতীয় উপমাদেশেরশ্রেষ্ঠ রাজনীতিবিদ , অত্যান্ত ধীশক্তি ও মেধা সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব ।তিনিভাষা আন্দোলনের অন্যতম রুপকার এবং মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিচালক ( বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে)ছিলেন।১৯৭১ খ্রিঃ মুক্তিযোদ্ধকালীন সময়ে স্বাধীনবাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।০৩ নভেমবর ১৯৭৫ খ্রিঃ ঢাকা কেন্দ্রী কারাগারেআটক অবস্থায় নিষ্ঠুরভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়।

মোঃ আহ্সান উল্লাহ মাস্টার


তিনি১৯৫০খ্রিঃ গাজীপুর সদর উপজেলারপূবাইল ইউনিয়নের হায়দরাবাদ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করনে। তিনি ১৯৬৯খ্রিঃ গণঅভ্যূান্থানে অংশ গ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।তিনিঅত্যান্ত ধীশক্তি এবং মেধা সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব ।তিনি ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।তিনি সংসদ সদস্য থাকা আবস্থায় আততায়ীদের হাতে নির্মম ভাবে নিহত হন।

ময়েজউদ্দিন এডভোকেট


১৯৩৩ সালে গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলাধীন বড়হরা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি গাজীপুরের অন্যতম অকুতোভয় রাজনৈতিকনেতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম কেন্দ্রী সংগঠক ছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধের সময়প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রের সময় তাঁর মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তা কাটিয়ে তুলতে সক্ষম হন।

আফাজাল হোসেন বীর উত্তম


০১ জুলাই ১৯৩৯ খ্রিঃ গাজীপুর সদর উপজেলার ভাড়ারুল গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।পিতা-মোঃ জমির উদ্দিন ।তিনি গাজীপুর জেলার একমাত্র বীরউত্তম বীর মুক্তিযোদ্ধা ।

মোঃ হাবিব উল্লাহ


গাজীপুর জেলার গাজীপুর সদর উপজেলার কাউলতিয়া গ্রামে ১৯৩৮ খ্রিঃ(বাংলা ১৩৪৬) জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৯ গণআন্দোলন, ১৯৭০ এর নির্বাচন ও ১৯৭১এর মুক্তিযুদ্ধে বলিষ্ঠ নেতৃত্বদান করেন। তিনি গাজীপুরের প্রধান সফল রাজনৈতিক ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব এবং আধুনিক গাজীপুরের অনন্যনেতৃত্বদানকারী । গাজীপুর মহকুমা ও জেলা প্রতিষ্ঠায় তাঁর গূরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ।

ফকির শাহাবুদ্দিন


কাপাসিয়া উপজেলার ঘাঘটিয়া গ্রামে ১৯২৪ সালে ফকির শাহাবুদ্দিন জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৫২ সনে ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভাবেঅংশ গ্রহণ করেন।১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনেকাপাসিয়া থেকেপ্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন । মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়তিনিএকজন কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সংগঠক, কুটনীতিক, সরকারী প্রতিনিধি রূপে নানা কাজে অংশ গ্রহণ করেন।তিনি১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য এবং ১৯৭৩ সালে দেশের প্রথম এটর্ণী জেনারেল ছিলেন ।

  কবি ও সাহিত্যিক

মেঘনাদ সাহা


০৬ অক্টোবর১৮৯৩ খ্রিঃকালিয়াকৈর উপজেলার শেওড়াপাড়াগ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা জগন্নাথ সাহা ও মাতা ভুবনেশ্বরীর।‘তাপ আয়ন তত্ত্ব’ তাঁর বিখ্যাত অবিষ্কার ।তিনি ১৯৪৮ সালে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার ফিজিক্স প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর বিজ্ঞানে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপযুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশে চাঁদের বুকে একটি গহবরের নাম রাখা হয় মেঘনাদ সাহা গহবর ।

আবু জাফর শামসুদ্দীন


১৩১৭ সনের ২৮ ফাল্গুন (১৯১১ সালের ১২ মার্চ ) কালীগঞ্জের দক্ষিণবাগ গ্রামেআবু জাফর শামসুদ্দীন জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ আববাছ আলী ভূঁইয়া ও মাতার নাম অফিফা খাতুন ।তিনি একজন বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক ,সাহিত্যিক ও কলামিষ্ট ।তাঁর উপন্যাসমূহ হচ্ছে পরিত্যাক্ত স্বামী, মুক্ত, ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান , পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন, প্রপঞ্চ, দেয়াল ইত্যদি।

গোবিন্দ চন্দ্র দাস


১৬ জানুয়ারী ১৮৮৫ খ্রিঃ(৪ঠা মাঘ ১২৬১বাংলা) গাজীপুর সদরের জয়দেবপুর গ্রামে গোবিন্দ চন্দ্র দাস জন্মগ্রহণ করেন। বাবা রমনাথ দাস,মা আন্দময়ী দেবী । তিনি স্বভাব কবি হিসেবে পরিচিত ।প্রসূন,প্রেম ও ফুল, কুসুম, ফুলরেণু ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ । বিখ্যাত এই কবি ১৯১৮ খ্রিঃ ২০ সেপ্টেমবর মৃত্যু বরণ করেন।

কালীচরণ


বাংলা ১২৮৪ সালে কালিয়াকৈর উপজেলারবাড়ইপাড়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।তিনি ছিলেন এক জন বিখ্যাত কবিয়াল।তিনি স্বদেশী গান, দেশাত্মবোধক গান ও দেহ তত্ত্বের উপর নানা গান ও কবিতা নিয়ে দেশের প্রত্যন্তাঞ্চলে ঘুরে ঘুরেউদ্ধুদ্ধ করতেন । সাহিত্যে তাঁর অবদানের জন্য তাঁকে চারণ কবি উপাধি দেয়া হয়।

মোঃ নূরুল ইসলাম (ভাওয়াল রত্ম)


১৯৩৬ খ্রিঃ গাজীপুর সদর উপজেলার মৈরান গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতাঃমৃত জোবেদ আলী মাস্টার । তিনি ১৯৭১ সালে সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটির সদস্য হিসেবেমুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮৮ ও ১৯৯১ সালেদুবার দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে জাতীয় পরুস্কার, স্বর্ণপদকসহ ভাওয়াল রত্ম খেতাবে ভূষিত হন।

  অন্যান্য

ভবানী ভট্টাচার্য


স্বাধীনতা সংগ্রামে চরমপন্থী আন্দোলনের অকুতোভয় তরুণ সৈনিক ভবানী ভট্টাচার্য গাজীপুর জেলায় জয়দেবপুরে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম- বসন্ত কুমার ভট্টাচার্য । তিনি ছিলেন রানী বিলাস মণি দেবীর ভ্রাতুষ্পুত্র । ছাত্রাবস্থায় তিনি গোপনেযুগান্তর পার্টিতে যোগ দেন । ১৯৩৪ সালে ৮ মেতিনিদাজিলিং এ ঘোড়দৌড় মাঠে বাংলার বড় লাট এন্ডারসনকে অব্যর্থ গুলি করেন।

এঞ্জেলা গোমেজ


১৯৫২ সালের ১৬ জুলাইগাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি কঠোর অধ্যবসায়আর স্বীয় প্রভিতা,সেবা ও নিরলসশ্রমের মাধ্যমেঅবহেলিত মানুষের উন্নিতর জন্য  সামাজিক আন্দোলনেস্বার্থকহওয়ায় এশিয়ারনোবেলখ্যাতআর্ন্তিজাতিকফিলিপাইন্থম্যাগসেসপুরুস্কারে ভূষিত হয়েছেন । ২০০০ সালে তিনি জাতীয় পুরুস্কারে ভূষিত হন ।

আহাম্মদ আলী মন্ডল


ভাষা সৈনিকআহাম্মদ আলী ১৯২৯ সালে শ্রীপুর উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা- মৃতঃ হাছেন আলী মন্ডল । ১৯৫২ সালের সদস্য নির্বাচিত হন।

স্যার কে জি গুপ্ত


ব্যরিষ্টার কে জি গুপ্তেরপিতাবিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ কালি নারায়ন গুপ্ত । তাঁর শৈশব কাটে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ গ্রামে । তিনি ভারতবর্ষের প্রথম আইসিএস এবং সর্বভারতীয় একমাত্র ব্যক্তি যিনি ইংল্যান্ডের ‘হাউজ অব কমন্স ’ এর সস্মানিত সদস্য ছিলেন । বৃটিশ সরকার তাঁকেদুর্লভ সন্মানসূচক উপাধীকে জি এস আইতে ভূষিত করেন। ক্ষণ জন্মাএই বাংগালীকে বৃটিশ প্রশাসন‘স্যার’ উপাধিতে ভূষিত করে ।১৮৫৭ সালে তিনি এ দেশে সিপাহী বিদ্রোহেরবিরুদ্ধে বৃটিশদের অমানবিক দমননীতিকে মেনে নিতে না পেরে আইসিএস এর চাকুরী ত্যাগকরেন।এবং বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণরত বিল্পবীদের আইনগত সহায়তা করার জন্য ব্যারিস্টারী পাশ করেন।

বি.এ. সিদ্দিকী


বাংলাদেশের অমর কৃতি সন্তান, ধীশক্তি সম্পন্ন বিচারপতিবি. এ, সিদ্দিকীগাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার বিখ্যাত বলিয়াদীজমিদার পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।১৯৭১ সনেপূর্ব পাকিস্তানের হাইকোর্টেরপ্রধান বিচার পতির আসন অলংকৃত করেন । বিচারপতিবি. এ, সিদ্দিকী জেনারেল টিক্কা খানকে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর হিসেবে শপথ গ্রহণ করাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন ।